বাংলাদেশের বিচার বিভাগ

রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সরকারের তিনটি বিভাগই গুরুত্বপূর্ণ। এদের কাজ পারষ্পরিক নির্ভরশীল ও পরিপূরক। আইনসভার আইন ও বিচার বিভাগের আদেশগুলো নির্বাহী বিভাগ বাস্তবায়ন করে। বিচার বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে আদেশ দেয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে দেশের বিচার বিভাগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। এখানে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের গঠন প্রণালি ও শ্রেণীবিভাগের একটি বেসিক ধারণা দেওয়া হল।

১। আইন বিভাগ (legislature): জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। এটি ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং এসব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে বাকী ৫০জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।

২। শাসন বিভাগ (Executive): রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত সকল অফিস এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাসন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপ্রধান (প্রেসিডেন্ট), সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী), মন্ত্রীপরিষদ ও সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়েই শাসন বিভাগ গঠিত। স্থানীয় পর্যায়ে শাসন ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বলা হয় স্থানীয় সরকার। শহর অঞ্চলে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও পৌরসভা এবং গ্রামাঞ্চলের জন্য জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

৩। বিচার বিভাগ (Judiciary): সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইন অনুযায়ী বিচার কাজ পরিচালনা করে তাকে বলা হয় বিচার বিভাগ। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিচারালয়ের বিচারক এবং কর্মচারীদের নিয়ে এ বিভাগ গঠিত।সুপ্রিম কোর্ট হলো বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তর। এর প্রধানকে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ বলা হয়।

বিচার বিভাগ

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত:
উচ্চতর বিচার বিভাগ (সূপ্রীম কোর্ট)
অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)

উচ্চতর বিচার বিভাগ সূপ্রীম কোর্টের আবার দুইটি বিভাগ রয়েছে: আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
আমাদের সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় আদালত একটি, তা হল সূপ্রীম কোর্ট। সূপ্রীম কোর্টের নিম্ন বিভাগ হল হাইকোর্ট বিভাগ। আপীল বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় সংস্থা। হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বিচারকদের নিয়ে আপীল বিভাগ গঠিত। তাঁদের মাঝে একজন হলেন “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি”, যিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারকগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারক হওয়ার আইনগত যোগ্যতা হল, অধস্তন আদালতের বিচারক বা বার কাউন্সিল সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে দশ বৎসরের অভিজ্ঞতা।

অধস্তন আদালত বলতে সূপ্রীম কোর্ট ব্যতীত দেশের সকল আদালতকে বোঝায়। কাজের এখতিয়ারের ওপর ভিত্তি করে অধস্তন আদালত মূলতঃ দুই ধরণের:

  • দেওয়ানী আদালত (Civil Court) সাধারণতঃ জমি জমা, পদবী, ক্ষতিপূরণ, অধিকার ইত্যাদি সম্পর্কিত মামলা মোকদ্দমা বিচার করে থাকে। বিচার শেষে আদালত জমির উপর কারো অধিকারের ঘোষণা দেয় বা কাউকে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়।
  • ফৌজদারী আদালত (Criminal court) বলতে মূলতঃ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের আদালতকে বোঝায়। এই আদালতগুলো আমাদের শরীর, সম্পত্তি সংক্রান্ত “অপরাধ” যেমন, হত্যা, চুরি-এর বিচার করে।

bd-judiciary
দেওয়ানী আদালতের শ্রেণীবিভাগ এবং এখতিয়ারসমূহ
(Classification & Jurisdiction of Civil Court’s)

১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৩নং ধারায় দেওয়ানী আদালতের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় পাঁচধরণের দেওয়ানী আদালত রয়েছে:

  1. জেলা জজ আদালত (Court of District Judge)
  2. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত (Court of Additional District Judge)
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালত (Court of Joint District Judge)
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (Court of Senior Assistant Judge)
  5. সহকারী জজ আদালত (Court of Assistant Judge)

দেওয়ানী আদালতসমূহের প্রাথমিকভাবে তিন ধরনের এখতিয়ার রয়েছে:

  • আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)
  • আঞ্চলিক বা স্থানিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction)
  • বিষয় বস্তু এখতিয়ার (Subject Matter Jurisdiction)

এছাড়াও দেওয়ানী আদালতসমূহের আরও পাঁচ ধরনের এখতিয়ার রয়েছে:

  • আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction)
  • আপীল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction)
  • পুনরীক্ষণ এখতিয়ার (Revision Jurisdiction )
  • পুনঃ বিবেচনা এখতিয়ার (Review Jurisdiction)
  • প্রশাসনিক এখতিয়ার (Administrative Jurisdiction)

আদালত সমূহের আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরুপ:

১। জেলা জজ আদালত: সাধারণত এই আদালত কোন মোকদ্দমা বিচারের জন্য গ্রহণ করতে পারেন না । এই আদালতের আপীল এখতিয়ার ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত।

২। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত: এই আদালত কোন আপীল বা মূল মোকদ্দমা বিচারের জন্য সরাসরি গ্রহন করতে পারেন না। জেলা জজ আদালতে দাখিলকৃত দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য এই আদালতে প্রেরন করা হয় ।

৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত: এ আদালত ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকার অধিক যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।

৪। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত: এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকার অধিক হতে ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মূল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।

৫। সহকারী জজ আদালত: এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।

উল্লেখ্য, সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। দাবির পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার কম হলে, যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। এর বেশি হলে তা যাবে হাইকোর্ট বিভাগে। অন্য কিছু বলা না থাকলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

ফৌজদারী আদালতের শ্রেণীবিভাগ এবং এখতিয়ারসমূহ
(Classification & Jurisdiction of Criminal Court’s)

ফৌজদারী আদালত প্রধানত দুভাগে বিভক্ত:
● দায়রা আদালত (Sessions Courts)
● ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Magistrate Courts)

দায়রা আদালত তিন ধরনের বিচারক দ্বারা পরিচালিত হয়। যেমন:
• দায়রা জজ
• অতিরিক্ত দায়রা জজ
• যুগ্ম দায়রা জজ

ফৌজদারী কার্যবিধির ৭ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেকটি জেলায় বা কয়েকটি জেলা মিলে একটি করে দায়রা আদালত থাকবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৯ ধারার ১ উপধারা অনুযায়ী সরকার প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগের জন্য একটি করে দায়রা আদালত স্থাপন করবেন এবং এই আদালতের জন্য একজন জজ নিয়োগ করবেন।একটি দায়রা আদালত অবশ্যই কোন দায়রা জজ,অতিরিক্ত দায়রা জজ,কিংবা যুগ্ম দায়রা জজ দ্বারা পরিচালিত হবে। মেট্রোপলিটন এলাকার দায়রা আদালতকে মেট্রোপলিটন দায়রা আদালত বলা হবে। প্রত্যেক জেলার জেলা জজকেই দায়রা জজ হিসাবে, অতিরিক্ত জেলা জজকে অতিরিক্ত দায়রা জজের এবং যুগ্ম জেলা জজকে যুগ্ম দায়রা জজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দায়রা আদালতের এখতিয়ার ও ক্ষমতা
প্রত্যেকটি দায়ারা আদালত দায়রা বিভাগের এলাকার মোকদ্দমার বিচার করবেন। দায়রা আদালত সেই সকল মামলার বিচার করবেন যা ফৌজদারী কার্যবিধির তফশীল-২ এ দায়রা আদালতে বিচার হবে মর্মে নির্ধারন করা হয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩১(২) অনুযায়ী দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যেকোন প্রকারের দণ্ড প্রদান করতে পারেন, তবে এরুপ কোন জজ যদি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন তাহলে হাইকোর্ট বিভাগের পুর্বানুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩১(৩) অনুযায়ী যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ছাড়া আইনে অনুমোদিত যেকোন প্রকারের দণ্ড প্রদান করতে পারেন।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
অপরদিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই ভাবে পরিচিত । যেমন:
● মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট
● মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেট

মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেটের শ্রেণিবিভাগ নিন্মরুপ:
• চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)
• অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গণ্য হবেন।

মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বা জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের শ্রেণিবিভাগ নিন্মরুপ:
• চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
• অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
• জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলতে সেকেন্ড ক্লাস এবং থার্ডক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝানো হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার ও ক্ষমতা:
ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিম্ন বর্ণিত দণ্ড ক্ষমতা থাকবে:
ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটগণ
– পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারবেন;
– আইন দ্বারা নির্ধারিত নির্জন কারাবাস দিতে পারবেন;
– দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটগণ
– তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারবেন;
– আইন দ্বারা নির্ধারিত নির্জন কারাবাস দিতে পারবেন;
– পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটগণ
– দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারবেন;
– দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।

ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৩ ধারা অনুযায়ী জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেট কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কারাদণ্ড মুল কারাদণ্ডের এক চতুর্থাংশের বেশী হবে না।

অন্যান্য আদালত সমূহ
উপরে উল্লেখিত আদালত সমুহ ছাড়া ও বিভিন্ন আইন এবং অধ্যাদেশের বলে আরো কতিপয় ধরণের আদালত গটন করা হয়েছে। বিশেষ ধরণের মামলার বিচার করার জন্য এসব আদালত তৈরি করা হয়েছে। যেমনঃ- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কীত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বলে গটিত স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালত, শ্রম আপীলেট ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল,জুভেনাইল কোর্ট, মেরিন কোর্ট ইত্যাদী।

গ্রাম আদালত
বিচার ব্যবস্থায় দেশের দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত ও সহজ করতেই গঠন করা হয়েছে গ্রাম আদালত। গ্রামের দরিদ্র মানুষ যাতে সহজে ও নামমাত্র খরচে তাদের এই অধিকার রক্ষা বা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেজন্যেই গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ আদালতে গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ বড় আকার ধারণ করার আগেই সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব । গ্রামীন জনপদে ন্যায়বিচারের ভিত শক্তিশালী করতে ২০০৬ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ সরকার । ইউনিয়ন পর্যায়ের এই আদালত জজ আদালতে মামলার চাপ কমিয়ে গোটা বিচার ব্যবস্থায় গতিশীলতা এনেছে । তবে সাধারণ মানুষ ও তাদেরই নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গ্রাম আদালত পরিচালিত হওয়ায় বা জনপ্রতিনিধিদের আচরণগত ত্রুটির কারণে এই আদালত অনেক সময় ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় । কিন্তু আইনগত দিক থেকে গ্রাম আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ আদালত।

গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও ক্ষমতা
১৯৭৬ সালের গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি ফৌজদারি ও দেওয়ানি দু’ধারাতেই বিচার করার কর্তৃত্ব রাখে।এক্ষেত্রে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মূল্যমান ৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। ২০০৬ সালের মে মাসে ১৯ নং আইনের অধীনে ১৯৭৬ সালের গ্রাম আদালত অধ্যাদেশের সংশোধন হয়ে যে আইনটি প্রণীত হয়, সেটি কম-বেশি আগের আইনটির মতোই।তবে এখানে প্রধান পরিবর্তনটি এসেছে মামলার ক্ষতিপুরনের আর্থিক সীমায়, যা ৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়। ১৯৭৬ এবং ২০০৬ উভয় আইনেই এর গঠন, পরিচালনা, মামলা যাচাই-বাছাই, ডিক্রি জারি এবং কার্যবিবরণীর নথি সংরক্ষণের কাজগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যে সকল অভিযোগের বিচার গ্রাম আদালতে হয় না:
ক) ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে
– অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পূর্বে অন্য কোন আদালত কর্তৃক কোন আদালত গ্রাহ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকে।
খ) দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে
– যখন কোন অপ্রাপ্ত বয়স্কের স্বার্থ জড়িত থাকে;
– বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে বিদ্যমান কলহের ব্যাপারে কোন সালিশের ব্যবস্থা (সালিশি চুক্তি) করা হয়ে থাকলে;
– মামলায় সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কার্যরত কোন সরকারি কর্মচারি হয়ে থাকলে;
উল্লেখ্য, কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যাবে না।

Download/Print version pdf format

সূত্র: ইন্টারনেট ও পত্র-পত্রিকা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ” তে 10টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।