জিকা ভাইরাস

zika virus

গতবছর ব্রাজিলে নতুন করে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মেলার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে বহু দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ব্রাজিলে গর্ভবতী নারীদের উপর চালানো গবেষণায় জিকা ভাইরাসের সঙ্গে ছোট মাথার শিশু জন্মগ্রহণের যোগ থাকার ধারণাটি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ায় জিকা ভাইরাস (Zika Virus) বর্তমানে বহুল আলোচিত বিষয়। দক্ষিণ আমেরিকার পর জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশও এই সতর্কতার বাইরে নয়। মশাবাহিত এই ভাইরাসটির সংক্রামণ ঠেকাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাই এই রোগ সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। যে কোনো রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা ও সাবধানতা।

জিকা ভাইরাস কী

পশ্চিম গোলার্ধের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় একটি ভাইরাস জিকা। যা অনেকটা ডেঙ্গুর মতো হলেও তার চেয়ে হালকা প্রভাব ফেলে দেহে। উগান্ডার বনে ১৯৪৭ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। জিকা ভাইরাস (Zika virus) হচ্ছে ফ্ল্যাভিভাইরিডি পরিবারের ফ্ল্যাভিভাইরাস গণের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের অন্যান্য ভাইরাসের মত এটি আবরণযুক্ত ও আইকসাহেড্রাল আকৃতির একসূত্রক RNA ভাইরাস।

ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য

ব্যাক্টেরিয়া (Bacteria) হল এক প্রকারের এককোষী অণুজীব। এরা প্রোক্যারিয়ট অর্থাৎ এদের কোষে সংগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। ব্যাক্টেরিয়া প্রায় সব ধরনের পরিবেশে এমনকি উচ্চমাত্রার তাপ বা শীতল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। এক গ্রাম মাটিতে ৪০ মিলিয়ন এবং এক মিলিলিটার পানিতে ১ মিলিয়ন পর্যন্ত ব্যাক্টেরিয়াল কোষ থাকতে পারে। বেশিরভাগ ব্যাক্টেরিয়া মানুষের কোন ক্ষতি করে না, কিছু ব্যাক্টেরিয়া বরংচ মানুষের উপকারই করে। ব্যাক্টেরিয়ার কোষগুলো উদ্ভিদ বা জীবদেহের কোষের ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে এবং প্রতিটি কোষ দ্বিখন্ডিত হয়ে ১টি থেকে ২টি, ২টি থেকে ৪টি এইভাবে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। নিউমোনিয়া, টাইফইয়েড, কলেরা, আমাশয়, যক্ষা ইত্যাদি রোগের জন্য ব্যাক্টেরিয়া দায়ী। মানুষের দেহের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য সাধারণত এন্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় শুধু রোগের লক্ষণ দেখে এটি ব্যাক্টেরিয়া নাকি ভাইরাস তা নিরুপণ করা কঠিন। তাই তাই সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের আকার ও আয়তন বিভিন্ন রকমের হতে পারে। সাধারণত ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস থেকে প্রায় ১০০ গুণ বড় হয়।
virus-bact
ভাইরাস (Virus) ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ। যার অর্থ হল ‘বিষ’। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত পদার্থকে ভাইরাস বলা হত। বর্তমান কালে ভাইরাস বলতে এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুকে বোঝায়। এরা ব্যাক্টেরিয়ার চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ ছোট এবং পোষক (উদ্ভিদ বা জীব) দেহের জীবিত কোষের ভিতরেই সক্রিয় থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, পানি ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে। ভাইরাস উদ্ভিদ বা জীবদেহের কোষের অভ্যন্তরে অবস্থান করে কোষের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তন বা ধ্বংস করে দেয়। ভাইরাসের দেহে কোন নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই; কেবল প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড দিয়ে দেহ গঠিত। ভাইরাস ঠিক জীবও নয় আবার জড়ও নয়, গঠনপ্রণালীর দিক দিয়ে অনেকটা এই দুইয়ের মাঝামাঝি। উদ্ভিদ ও প্রাণির বহু রোগ সৃষ্টির কারণ হল ভাইরাস। ভাইরাস মানুষ, পশু-পাখি, উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিয়ে একে ধ্বংস করা যায় না। তবে কিছু কিছু ভাইরাসের প্রতিরোধক ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো মূলতঃ শরীরে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে। হাম, বসন্ত, জলাতংক, পোলিও, এইডস ইত্যাদি রোগ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

শনাক্তকরণ ও নামকরণ

১৯৪৭ সালে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার অতি পরিচিত জিকা (স্থানীয় ভাষায় ‘বাড়ন্ত’) বনাঞ্চলে প্রথম এ ভাইরাসের সন্ধান মেলে। রকফেলার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উগান্ডা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিজ্ঞানীরা ওই বনে তখন ‘পীত জ্বর’ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। গবেষণার এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত’ বানরের দেহে নতুন এক ভাইরাসের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা, যার নাম দেওয়া হয় ওই বনেরই নামে ‘জিকা ভাইরাস’।

আফ্রিকা থেকে আমেরিকা

১৯৪৭ সালে সন্ধান পাওয়ার সাত বছর পর ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মত এ ভাইরাস সনাক্ত করা হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে। ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীরা আফ্রিকা থেকে মশার এই জাতকে সমুদ্র পার করে আমেরিকায় নিয়ে আসেন বলে গবেষকদের ধারণা। এরপর দীর্ঘ সময় পরপর দুই দফায় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে এশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে। ১৯৬২ সালে আমেরিকা মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে এডিস এজিপ্টিকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছিল।
zika-forest
প্রত্যাবর্তন
গতবছর ব্রাজিলে নতুন করে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মেলার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে বার্বাডোজ, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ফ্রেঞ্চ গিনি, গুয়াতেমালা, গুয়াদেলোপ, গায়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, পানামা, প্যারাগুয়ে, পুয়ের্তো রিকো, সুরিনাম ও ভেনিজুয়েলাসহ দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় বহু দেশে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আগে কখনোই এ রোগ এবারের মতো হুমকি হয়ে আসেনি।
প্রত্যাবর্তনের কারণ
এর আগে নগরায়নের পাশাপাশি কীটনাশক বন্ধে ব্যাপক রাজনৈতিক-সামাজিক উদ্যোগ মশাটির পুনর্বিস্তারে সহায়তা করেছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউরিয়েল কির্টন জিকার প্রাদুর্ভাবের জন্য নগরায়নের ধরনকেও দায়ী করেছেন। তার মতে, গত সাত দশকে ব্রাজিলে নগরায়নের হার ২০ থেকে বেড়ে ৮০ শতাংশ হওয়াও এডিস এজিপ্টির বিস্তার বাড়ার অন্যতম কারণ। বংশবৃদ্ধির জন্য এ মশার পরিষ্কার পানি দরকার হয় না। ফুলের টবের মতো ছোট ও বদ্ধ পাত্রে সহজেই ডিম পাড়তে পারে। আর সঙ্গে আছে প্রচুর খাবার, মানে মানুষের রক্ত। নগরের ঘিঞ্জি পরিবেশও এই মশা বিস্তারের সহায়ক। নগরায়নের পাশাপাশি কীটনাশক বন্ধে ব্যাপক রাজনৈতিক-সামাজিক উদ্যোগ মশাটির পুনর্বিস্তারে সহায়তা করেছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

আক্রান্ত অঞ্চল

বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর এক আতঙ্কের নাম এখন জিকা ভাইরাস। ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, জ্যামাইকাসহ বিশ্বের ৩০টির মতো দেশ ও বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জিকা। গত মে মাস থেকে ব্রাজিলে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এই ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েরা গত কয়েক মাসে সেখানে এমন চার হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে, যাদের মাথা শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক ছোট। কলম্বিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার নবজাতক জিকার শিকার। এল সালভাদরের মতো ছোট দেশেও পাঁচ হাজার নবজাতক জিকার প্রকোপে শারীরিক বৈকল্য নিয়ে জন্মেছে।
zika-location
সাম্প্রতিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ – জিকা সংক্রমণ ক্রমেই মহামারির দিকে এগোতে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে বার্বাডোজ, বলিভিয়া, গুয়াতেমালা ও পুয়ের্তোরিকোর সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সাহায্য চেয়েছে। জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না বলে বেশ কয়েকটি দেশ নমুনা পরীক্ষার জন্য আমেরিকার দ্বারস্থ হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে জিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ব্রাজিল সরকার দুই লাখ ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে করণীয় জানাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ক্যারিবিয়ান এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের ৩০টি দেশে জিকা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা ও চিকিৎসাব্যবস্থা আবিষ্কারের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে বিস্ফোরকদ্রব্যের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান ২১ জানুয়ারি বলেছেন, এর ভয়াবহতা ও প্রভাব অত্যন্ত হূদয়বিদারক। ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ এ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

যেভাবে ভাইরাসটি ছড়ায়

মূলত দুই ধরণের এডিস মশা দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজেপটি প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উত্পত্তি। গ্রীষ্মমণ্ডল ও এর নিকটবর্তী অঞ্চলে Aedes aegypti মশার মাধ্যমে ছড়ায় কারণ শীতপ্রধান অঞ্চলে এরা টিকে থাকতে পারেনা। শীতপ্রধান অঞ্চলে Aedes albopictus মশা এই রোগ ছড়াতে পারে। কারণ Aedes albopictus মশা শীতপ্রধান অঞ্চলে টিকে থাকতে পারে। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থানান্তর হয়। পরে ওই মশাটি অন্য ব্যক্তিদের কামড় দিলে তা ছড়াতে থাকে। এরপর ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে। উল্লেখ্য, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ভাইরাস ছড়ানোর জন্যও এই জাতের মশাগুলো দায়ী। শুধু স্ত্রী মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। এরা একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। একবার রক্ত খাওয়া শেষে ডিম পাড়ার পূর্বে তিন দিনের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এদের ডিমগুলো পানিতে এক বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। এগুলো মানুষের আশেপাশেই থাকতে পছন্দ করে এবং বাড়ির আশাপাশে নালা-নর্দমা, ফুলের টপ ও পরিত্যক্ত জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও সুস্থ মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। জিকা ভাইরাস শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকাতে এরকম ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

রোগের উপসর্গ

জিকা ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ্বর। এর সাথে ডেঙ্গু জ্বর, পীত জ্বর প্রভৃতির অনেক মিল আছে। এর উপসর্গগুলো হলো জ্বর, হাল্কা মাথা ব্যথা, অবসাদগ্রস্ততা, কনজাংটিভাইটিস, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, শরীরে লালচে দাগ বা ফুস্কুড়ি ইত্যাদি।রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে এই ভাইরাস কয়েকদিন থাকে তবে কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এর সুপ্তিকাল কয়েকদিন হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। শতকরা ৮০ শতাংশ সংক্রামিত ব্যক্তিই আঁচ করতে পারেন না যে তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। এসব কারণে ভাইরাসটি নির্ণয় করা কঠিন আর এ সুযোগে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্র হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না। এবং ২-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগে মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুর্লভ। zika-symptoms zika-symptoms credit: Minsty জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাঝারি মাত্রার জ্বর, চোখে প্রদাহ, গোড়ালিতে ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পেশিতে ও মাথাব্যথা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। শরীরে র‌্যা শও (চামড়ায় লাল ফুসকুড়ি) বেরোতে পারে। কিন্তু এই লক্ষণগুলো এতই মৃদু যে রোগী জিকা আক্রান্ত না সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত, তা বোঝা খুব কঠিন। শরীরে জিকা ভাইরাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্ত, প্রশ্রাব, মুখের লালা ইত্যাদি পরীক্ষা করা জরুরি। তবে ইয়েলো ফিভার, ওয়েস্ট নাইল, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু যে গোত্রের সদস্য, জিকা ভাইরাসও একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি ফ্লাভিভাইরাস। তবে ওপরের ভাইরাসের কয়েকটির টিকা বা চিকিৎসা থাকলেও জিকার কোনো টিকা এমনকি কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সতর্ক থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল।
সাধারণত এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ভয়াবহ কোনো সমস্যা হয় না। ৫-৭ দিনের মধ্যে এমনিতেই রোগ সেরে যায়। মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। গর্ভবতী নারীরা জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেটি মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) নামে পরিচিত। ব্রাজিলে গত বছর হঠাৎ করে কয়েক হাজার শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট মাথা নিয়ে জন্মায়। অনেকেই মনে করছেন জিকা ভাইরাসের কারণে এমনটি হতে পারে।

মাইক্রোসেফালি (Microcephaly)

জিকা ভাইরাসে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে, তবে গর্ভবতী মহিলাদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ‘মৃত্যু’ নয়, জিকা ভাইরাস সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে এসেছে নবজাতকদের নিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি (Microcephaly)। এর ফলে আক্রান্ত শিশু ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী’ হতে পারে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবিকশিত মস্তিষ্ক শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। তবে জিকা ভাইরাস ঠিক কীভাবে গর্ভের শিশুর এই ক্ষতি ঘটায় তা এখনো স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটন করা যায়নি। মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের সংক্রমণে গর্ভের শিশু মাইক্রোসেফালি নামের রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে অপরিণত ও ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম নেয় শিশুরা। আমেরিকা মহাদেশসহ ২০টি দেশে ইতোমধ্যেই মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস, যার কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে ব্রাজিলকে। শুধু ব্রাজিলেই ১৫ লাখ মানুষ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং কয়েক হাজার শিশু অপরিণত ও ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক মাস মহিলাদের গর্ভধারণ না করতে বলেছে লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া, এল সালভাদরসহ অনেক দেশ। কোনো কোনো দেশ বলছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত মহিলারা যেন সন্তানের জন্ম না দেন। এই বার্তা প্রচারের পর, আমেরিকান দেশগুলোতে গর্ভপাতের প্রবণতা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বেড়ে গেছে গর্ভনিরোধক ওষুধ বিক্রির পরিমাণ।
microcephaly
চিকিৎসকরা বলেছেন, জিকায় আক্রান্ত হয়ে অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক নিয়ে কোনো শিশু জন্ম নিলে বাকি জীবন তাকে সেই অস্বাভাবিকতা নিয়েই বাঁচতে হবে। তবে এর সঙ্গে একমত পোষণ না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মার্গারেট চ্যান বলেছেন, জিকা ভাইরাসের সঙ্গে জন্মগত ত্রুটি ও স্নায়ুবিক বিভিন্ন রোগের সম্পর্ক এখনো স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়নি।

ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও অজ্ঞতা
ব্রাজিল এবং ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। এদের ধর্মীয় রীতিনীতি এখনও খুবই কঠোর। যার কারণে এসব দেশে গর্ভপাত অবৈধ। প্রাইভেট ক্লিনিকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গর্ভপাত নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হলেও তা দরিদ্র লোকের ক্ষমতা ও আওতার বাইরে। তাছাড়া বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ধর্মনিষ্ঠ লোকজন গর্ভপাতের ঘোর বিরোধী। তারা একে নরহত্যার শামীল মনে করে। নিচের ছবির মহিলা নাদিয়া বেযার্রা ব্রাজিলের Pernambuco রাজ্যের একটি গিঞ্জি এলাকায় বসবাস করেন।
Zika effected baby
এখানে সবচেয়ে বেশি লোক জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নাদিয়া সন্তানসম্ভাবা অবস্থায় জানতে পারেন যে তিনি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত। হাসপাতালে ডাক্তার গর্ভাপাতের পরামর্শ দিলে নাদিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “সন্তান বিকলাঙ্গ হলে হউক কিন্তু ঈশ্বর অসন্তুষ্ট হয় এরকম কাজ আমি করব না।” মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী কন্যাসন্তান আলিসিয়ার অসহায় অবস্থার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বললেন, “আমার গর্ভে আলিসিয়ার জন্ম হওয়াটা ছিল সম্পূর্ণ ঈশ্বরের ইচ্ছা। আমি আগে থেকেই দারিদ্রতার কষাঘাতে কষ্ঠ পাচ্ছি। আমি কি দোষ করেছি জানিনা। ঈশ্বর আবার আমাকে নতুন করে কেন শাস্তি দিলেন!”

চিকিৎসা

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এ রোগটি সাধারণ মানুষের তেমন ক্ষতি করে না। কয়েক দিন বিশ্রাম করলেই তা সেরে যায়। শুধু গর্ভবতী নারীদের আক্রান্ত হলেই শিশুর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এই রোগের কোন ওষুধ বা টীকা নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি পান করতে হবে যেন পানিশূন্যতা না হয়। ব্যথা ও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন ও অন্যান্য NSAID যেমন আইবুপ্রফেন, ন্যাপ্রক্সেন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত বাচ্চাদেরকে জ্বর ও ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন খাওয়ালে রাই সিন্ড্রোম (Reye syndrome) হতে পারে এবং বাচ্চা মারা যেতে পারে।

প্রতিরোধ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম এক সপ্তাহ রোগীর রক্তে ভাইরাস থাকতে পারে তাই এই সময় রোগীকে যেন মশা না কামড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ ঐ ব্যক্তিকে কামড়ালে ভাইরাস মশার শরীরে প্রবেশ করবে এবং ঐ মশা কোন সুস্থ্য ব্যক্তিকে কামড়ালে সে ব্যক্তিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। এডিস মশা সাধারণত বালতি, ফুলের টব, গাড়ীর টায়ার প্রভৃতিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায় তাই সেগুলোতে যেন পানি না জমে থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘর-বাড়ি মশা মুক্ত রাখতে ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে যাতে ময়লাযুক্ত পানি দীর্ঘসময় জমে থাকতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এছাড়া পুরো শরীর ঢেকে থাকে এমন কাপড় পরিধান করতে হবে, মশারির নিচে ঘুমাতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অনিশ্চয়তার মুখে অলিম্পিক গেমস

এবারের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আসর বসছে ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরোতে। অগাস্টের ৫ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়া আয়োজনটি নিয়ে ব্রাজিলবাসীর উত্তেজনায় ছেদ টেনে দিয়েছে জিকা ভাইরাস আতঙ্ক। অ্যাথলিট এবং দর্শকদের রিও অলিম্পিকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। রিও অলিম্পিক যে একটা বড় অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এদিকে ব্রাজিলীয় গবেষকরা মনে করছেন এই ভয়ানক জিকা ভাইরাস ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ব্রাজিলে এসেছে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত এই আসরে যে লাখ লাখ দর্শক বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রাজিলে এসেছিল তাদের মাধ্যমেই এটি ছড়িয়েছে বলে তাদের ধারণা। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে পলিনেশিয়ায় জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল।

জিকা সম্পর্কিত কিছু গুজব ও কল্পকাহিনী

জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ছে। এর বেশিরভাগেরই কোন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি নেই।

  • জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র
    অনেকের ধারণা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ভাইরাস ছেড়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জিকা ভাইরাসে মানুষের মৃত্যু হয় না। এমনকি এটি জন্মহারেও কোন প্রভাব ফেলে না। বরংচ এতে কিছু শিশু বিকলাঙ্গ হচ্ছে। কম জনসংখ্যার চেয়ে বিকলাঙ্গ জনসংখ্যা আরো বিপদজনক। সুতরাং এটি কখনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফলপ্রসু ষড়যন্ত্র হতে পারে না।
  • Rothschilds / Rockefellers ফাউন্ডেশনের সৃষ্টি
    আবার অনেকের বিশ্বাস জিকা ভাইরাস ছড়ানোর পেছনে Rockefellers ফাউন্ডেশনের হাত রয়েছে। তারা এর ভেকসিন আবিষ্কার করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ভেকসিনের বাণিজ্যিক সফলতার জন্য সারা বিশ্বে একটি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাই। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জিকা ভাইরাসে গর্ভবতী মহিলা ছাড়া আর কারো মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয় না। মশাবাহিত অন্যান্য রোগ বিশেষ করে ম্যালেরিয়া/ডেঙ্গু সব ধরনের মানুষের ক্ষতি করে। সুতরাং জিকা ভাইরাসের পরিবর্তে ম্যালেরিয়া/ডেঙ্গুর ভেকসিন আবিষ্কার করতে পারলে ফাউন্ডেশনের জন্য লাভজনক হত বেশি।
  • Oxitec কোম্পানীর জিন পরিবর্তন করে সৃষ্ট মশা এর জন্য দায়ী
    বৃটিশ কোম্পানী Oxitec-এর কিছু জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ার অনেক আগে এ ধরনের মশার জীনে কিছু পরিবর্তন এনে পরীক্ষা করে দেখেছেন এদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো বন্ধ করা যায় কিনা। এই তথ্য জানার পর অনেকের সন্দেহ এইসব জেনেটিক মডিফাইড মশা আজকের জিকা ভাইরাসের জন্য দায়ী। উল্লেখ্য Oxitec-এর সেই গবেষণাগার বর্তমান ভাইরাস কবলিত এলাকা থেকে অনেক অনেক দূরে।

মশাবাহিত অন্যান্য রোগ

মশার কামড়ে আরো যেসব রোগ মানুষের দেহে ছড়ায় সেগুলো হচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, চিকুঙ্কাগুয়া।

  • ম্যালেরিয়া: এই রোগ কয়েক ধরনের পরজীবী জীবাণু দ্বারা হয়। জীবাণু ভেদে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীদের কেঁপে কেঁপে খুব জ্বর হয় এবং জ্বর ছাড়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়। কারো কারো বেলায় যথাসময়ে রোগ নিরূপণ ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে জটিলতার সৃষ্টি হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
  • ডেঙ্গু জ্বর: এই রোগ এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা হয় এবং মশার কামড়ে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এই রোগেও জ্বর হয় এবং অন্যান্য উপসর্গে, জটিলতার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
  • ফাইলেরিয়া: ফাইলেরিয়া একটি সংক্রামক ব্যাধি, পরজীবী জীবাণু দ্বারা হয়। মশার মাধ্যমে এই রোগটি ছড়ায়। ফাইলেরিয়া জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশের কয়েক বছর পর এর জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। মশার কামড়ের পর এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম দিকে কয়েক বছর মাঝে মধ্যে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, গা চুলকানো ও শরীরে লালগুটি পড়া ইত্যাদি দেখা যায়। এরপর আস্তে আস্তে আক্রান্ত লিম্পগ্লান্ডের মাধ্যমে তরল পদার্থের সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং হাত-পা, অণ্ডকোষ, স্তন ইত্যাদি ফুলে বিকৃত হয়ে যায়। রোগী চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে।
  • চিকুঙ্কাগুয়া: (chikungunya) এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজেপটি প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উত্পত্তি। জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর নানা শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দেয়। চিকুঙ্কাগুয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমিবমিভাব, হাত ও পায়ের গিটে এবং আঙ্গুলের গিটে ব্যথা, ফোসকাপড়া ছাড়াও শরীর বেঁকে যেতে পারে। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানব দেহে প্রবেশ করে। শুধু নারী এডিস মশার কামড়েই এই রোগ হতে পারে। সাধারণত মশায় কামড়ানোর ৫ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। আপাতত এ রোগের কোনো চিকিত্সা নেই। জ্বর ও মাথা ব্যথার চিকিত্সাতেই এ রোগ সেরে ওঠে। তবে মশার কামড় থেকে দূরে থাকতে হবে।

“অনেক বড় বড় দুর্যোগ-বিপর্যয়কে মোকাবেলা করে মানব জাতি এতটুকু পথ এগিয়ে এসেছে। আজ আমরা সামান্য কিছু মশার কাছে হেরে যেতে পারি না। আমরা সবাই আরো সচেতন হয়ে একসাথে কাজ করে একে প্রতিরোধ করতে হবে।”
-জাতির উদ্দ্যেশ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ

সূত্র: ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া, দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টিভি ইত্যাদি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।