নিঝুম দ্বীপ

Nijum Dwip

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। ৭০’এর দশকে এধরনের একটি চরে বন বিভাগের উদ্যেগে কিছু কেওড়া বৃক্ষ রোপণ এবং সেইসাথে সুন্দরবন থেকে চার জোড়া চিত্রা হরিণ এনে অবমুক্ত করা হয়। এরপর সময়ের বিবর্তন ও প্রকৃতির অনুকূল প্রভাবে সে চর অগণিত শ্বাসমূলে ভরা কেওড়া বনের এক সবুজ নিরব-নিস্তব্ধ দ্বীপ ও চিত্রা হরিণের নিঝুম অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে বর্তমানে ‘নিঝুম দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সৈকত, হাজার পাখির মেলা, সমুদ্রের বুকে হেলে পড়া অস্তগামী সূর্যের অপরূপ দৃশ্য, সমুদ্রের স্বচ্ছ নোনা জল নিঝুম দ্বীপকে ভ্রমণবিলাসী মানুষের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয় করে তোলে। বিশেষ করে যারা জনাকীর্ণ নগর জীবনের শব্দদূষণ আর অগণিত মানুষের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে কিছু সময়ের জন্য প্রাকৃতিক নৈসর্গের নিঝুম পরিবেশে সাগর থেকে ধেয়ে আসা নির্মল-মিষ্টি হাওয়ায় প্রশমিত হয়ে উম্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে নীরব-নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যেতে চান তাদের জন্য উত্তম স্থান এই নিঝুম দ্বীপ।

অবস্থান

Nijhum Dwip
নোয়াখালী জেলার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে নিঝুমদ্বীপের অবস্থান। একে ‘দ্বীপ’ বলা হলেও এটি মূলত একটি চর। ১৯৪০ এর দশকে এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে উঠা শুরু করে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা এই দ্বীপটি প্রথম আবিষ্কার করে। চর গঠনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ৪০ এর দশকের শেষদিকে নিঝুমদ্বীপ তৃণচর বা গোচারণের উপযুক্ত হয়ে উঠে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না। তাই দ্বীপটির সার্বিক পরিবেশ ছিল নীরব-নিস্তব্ধ বা নিঝুম। ষাটের দশকের মাঝামাঝি নিঝুম দ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুম দ্বীপে আসে। বাংলাদেশের বনবিভাগ ৭০-এর দশকে প্রায় ১৪,০৫০ একরের এই দ্বীপটিতে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে এবং সুন্দরবন থেকে কেওড়া ও শ্বাসমূল জাতীয় উদ্ভিদ নিয়ে বনায়নের কাজ শুরু করে। এরপর সামুদ্রিক লোনা পানি ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে ধীরে ধীরে এখানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠে ম্যানগ্রোভ বন ও হরিণের অভয়ারণ্য। বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের প্রধান চারটি দ্বীপ ও ছোট ছোট কয়েকটি চর নিয়ে এ দ্বীপ। উত্তর দক্ষিণে প্রায় নয় কিলোমিটার লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে প্রায় সাত কিলোমিটার চওড়া। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবী করেন।

নামকরণ

নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়তো বিধায় জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ‘ইছামতির দ্বীপ’।এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মত ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেও ডাকতো। কালক্রমে ইছামতি দ্বীপ নামটি হারিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেই সম্বোধন করে। নিঝুম দ্বীপ বা বাইল্যার ডেইল যে নামই হোক না কেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দিয়ারা জরিপ বিভাগ এই দ্বীপের জমি চর ওসমান মৌজা হিসেবে জরিপ করে। কথিত আছে সর্দার ওসমান নামের এক সাহসী বাথানিয়া ১০০ মহিষ নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথম এই দ্বীপে অসে এবং দিয়ারা জরিপ কর্মচারীদেরকে জরিপ কাজে প্রভূত সহায়তা করে বিধায় তার নামে অনুসারে নিঝুম দ্বীপে মৌজার সরকারি নাম হয় ‘চর ওসমান’। ইছামতির দ্বীপ, বাইল্যার চর বা চর ওসমান যে নামেই স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হোক না কেন ৮০-এর দশকের শুরু হতে এই দ্বীপটি বাংলাদেশের জনগণের নিকট নিঝুম দ্বীপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আয়তন, জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা

১৯৫৯-৬০ সালে জরিপের পর ভূমিহীনদের মধ্যে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার জন্য প্রথম দফায় জনপ্রতি আড়াই একর করে ৬২৫ একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। সত্তরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আগে এখানে ৩৬০টি পরিবার বসবাস করত। গোর্কিতে তখন নিঝুম দ্বীপের প্রায় সবারই মৃত্যু ঘটে। কিন্তু হাতিয়াসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার নদীভাঙা মানুষ আবারও এখানে ভিড় জমাতে থাকে। ১৯৮৮ সালে সরকার নিঝুম দ্বীপে নয়টি গুচ্ছগ্রাম এবং একটি কলোনিতে মোট ৪৭৯টি পরিবারকে পুনর্বাসন করে। প্রায় ৯১ বর্গ কিমি আয়তনের নিঝুম দ্বীপের আয়তন দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই গুচ্ছ গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোটখাটো ঝুপড়ি ঘর। গত তিন যুগ ধরে নিঝুম দ্বীপে ১৫ হাজার একর খাসভূমিতে গড়ে উঠেছে জন বসতি। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ১৯৯৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ৩৬৯৭০.৪৫৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থিত। এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকটি ফার্মেসী থাকলেও কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। এ দ্বীপে রয়েছে চারটি বাজার, নৌ চলাচলের ঘাট তিনটি, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার নির্মিত ৭টি ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ১টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং নবগঠিত একটি ইউনিয়ন পরিষদ।

নৈসর্গিক সৌন্দর্য

Nijhum Dwip
চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সবুজ কেওড়া বন, নীরব-নিস্তব্ধ পাকৃতিক পরিবেশ আর অগণিত হরিণের অভয়াশ্রম নিঝুম দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোন বনে কাছাকাছি থেকে এত বেশি চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। অগণিত শ্বাসমূলে ভরা কেওড়া বাগানের এক সবুজ এই দ্বীপ দিনে দু’বার জোয়ার-ভাটায় তার রূপ বদলায়! এই দ্বীপের এক পাশ ঢেকে আছে সাদা বালুতে, আর অন্য পাশে সৈকত। এটি শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখির মিলন মেলায় পরিণত হয়। বিশেষ করে যারা জনাকীর্ণ নগর জীবনের শব্দদূষণ, অগণিত মানুষের কোলাহল আর প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে কিছু সময়ের জন্য প্রাকৃতিক নৈসর্গের নিঝুম পরিবেশে সাগর থেকে ধেয়ে আসা নির্মল-মিষ্টি হাওয়ায় প্রশমিত হয়ে উম্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে নীরব-নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যেতে চান তাদের জন্য উত্তম স্থান এই নিঝুম দ্বীপ। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং রাতে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় সৃষ্ট মায়াবী ইন্দ্রজাল অনেক দিন মনে রাখার মতো। নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন দমার চরের দক্ষিণপ্রান্তে রয়েছে এই নয়নাভিরাম সৈকত। নানান বৈচিত্র্যে ভরপুর ব্যতিক্রমধর্মী এই দ্বীপ এখন বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষনীয় ভ্রমণ কেন্দ্র।
বনেঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের খালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চৌধুরীর খাল, পটকাখালী খাল, সোয়ানখালী খাল, ডুবাই খাল, ধামসাখালী খাল, ভট্রোখালী খাল, কাউনিয়া খাল ও লেংটা খাল। এ দর্শনীয় খালগুলো জোয়ারের পানিতে পূর্ণ হলে মায়াবী সৌন্দর্য্য ছড়ায়। চৌধুরীর খাল ও ডুবাই খালের পাড়ে বনের মায়াবী হরিণের দল পর্যটকদের আকর্ষণ কাড়ে। সমুদ্র পাড়ে ১২ কিমি সমুদ্রসৈকত, সৈকতে এরা ভ্রমণবিলাসীদের মনে আনন্দ ছড়ায়।

উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য

নিঝুম দ্বীপে রয়েছে কেওড়া গাছ। ইদানিং বনবিভাগ কিছু নোনা ঝাউও রোপন করছে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৪৩ প্রজাতির লতাগুল্ম এবং ২১ প্রজাতির অন্যান্য গাছ। নিঝুম দ্বীপে হরিণ, মহিষ এবং কিছু বন্য কুকুর ছাড়া অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী নেই। হরিণের সংখ্যা প্রায় ২২,০০০ (প্রেক্ষাপট ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এছাড়াও শীতের মৌসুমে অজস্র প্রজাতির অতিথির পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় নিঝুম দ্বীপ। বনগুলোতে গাঙচিল, বক, হিরন, বাঁলিহাঁস, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, মাছরাঙা, বউ কথা কও, হরিয়াল, পানকৌড়ি, কাঠঠোকড়া, শালিক, দোয়েল ও বুলবুলিসহ দেশি ও অতিথি পাখির অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নিঝুম দ্বীপে বিশাল এলাকা পলিমাটির চর। জোয়ারের পানিতে ডুবে এবং ভাটা পড়লে শুঁকোয়। এই স্থানগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের বসবাস। জোয়ারের পানিতে বয়ে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এদের একমাত্র খাবার। এখানে রয়েছে মারসৃপারি নামে একধরনের মাছ যাদেরকে উভচর প্রাণী বলা হয়। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে এই মারসৃপার, ৬-৯ ইঞ্চি লম্বা হয়। বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিখ্যাত। এই সময় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা নিঝুম দ্বীপে মাছ কিনতে আসে।। এছাড়া শীত কিংবা শীতের পরবর্তী মৌসুমে নিঝুম দ্বীপ চেঁউয়া মাছের জন্য বিখ্যাত। জেলেরা এই মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করেন। এই শুঁটকি মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের কাছে বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে। আবার এই শুঁটকি হাঁস-মুরগীর খাবারেও ব্যবহার করা হয়।
Nijhumdwipdeer
প্রতিটি বনে কোন প্রাণী কতটি থাকতে পারবে তার একটি নিজস্ব(natural) নিয়ম (Territory) আছে, কিন্তু নিঝুম দ্বীপে তা এখনও গড়ে উঠেনি। যেমন বৃক্ষের মধ্যে কেওড়া গাছের আধিক্য সবচে বেশি অন্য গাছ নাই বললেই চলে, তেমনি জীব জন্তুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হরিন। প্রতিটি জঙ্গলে গাছপালাসহ জীব জগতের একটা পারষ্পরিক সম্পর্ক (Eco-system) থাকে, নিঝুম দ্বীপের বনায়ন পরিকল্পনায় এটি সঠিকভাবে মানা হয়নি। এখানে হরিন ছাড়া আছে শিয়াল ও কিছু কুকুর । নিঝুম দ্বীপের কুকুরগুলো খাদ্যের প্রয়োজন ছাড়াও অনেক হরিনকে আহত ও হত্যা করে। তাছাড়া এখানে হরিনের খাদ্য সমস্যা আছে। কেওড়া গাছগুলো বড় হয়ে যাওয়াতে পাতাগুলো হরিনের নাগালের বাহিরে চলে গেছে। এখানে কোন বানর বা এজাতীয় কোনো প্রাণী নেই যে হরিনের জন্য কেওড়া ফল বা পাতা ছিড়ে ফেলবে। বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় বনের নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে থাকা ও শীতকালে দীর্ঘ সময় শুষ্কতার কারণে হরিনের খাদ্যের সমস্যা দেখা দেয়।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ (সড়কপথে):
১। ঢাকার মহাখালী, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইন, এশিয়া ক্লাসিক, একুশে এক্সপ্রেস ও হিমাচল এক্সপ্রেসের বাস যায় নোয়াখালীর সোনাপুর। ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা। সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। অথবা ঢাকা কমলাপুর থেকে আন্তঃনগর উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনেও যাওয়া যায় নোয়াখালীর মাইজদি পর্যন্ত।

Nijhum Dwip Road map

২। নোয়াখালীর সোনাপুর/মাইজদি থেকে বাস বা সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট (বয়ার চর), প্রায় ৪৬ কিমি, সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মত। ভাড়া ৮০ থেকে ১৪০ টাকা।

৩। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে যেতে হবে নলচিরা ঘাট (হাতিয়া), ৩০ কিমি, সময় দুই ঘন্টা, ভাড়া ১৫০ টাকা। স্পীড বোটও যায়, সময় ৩০ মিনিট, জনপ্রতি ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। অথবা
sea-truck
চেয়াম্যান ঘাট থেকে প্রতিদিন দুপুর ২ টার দিকে হাতিয়ার (নলচিরা ঘাট) উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সি ট্রাক। ভাড়া নেবে চেয়ারে ১৫০ টাকা এবং ডেকে ১০০ টাকা। সময় লাগবে দেড় ঘন্টা। (ফোন নম্বর-০১৭৫৬৮৪৬১০৬)

৪। নলচিরা ঘাট থেকে আবার বাসে বা ‘চান্দের গাড়িতে’ যেতে হবে হাতিয়ার অপর প্রান্তের জাহাজমারা বাজার। ২৬ কিমি, সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা, ভাড়া ৮০ – ১০০ টাকা। যারা নলচিরার পরিবর্তে তমুরুদ্দি বাজারে নামবে তাদেরকেও এই রাস্তায় জাহাজমারা ঘাটে যেতে হবে। উল্লেখ্য, তমুরুদ্দি থেকে ট্রলারেও নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়।

৫। জাহাজমারা থেকে মোটরসাইকেলে মোক্তারিয়া ঘাট। ভাড়া জন প্রতি ৬০-৮০ টাকা। ১২ কিমি, সময় লাগবে ৩০ মিনিট। ঘাটে দাঁড়ালেই মোক্তারিয়া খালের অপর পাশে নিঝুম দ্বীপে দেখা যায়।

৬। হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে যেতে সময় লাগবে ১০-১৫ মিনিট, দেড় কিমি, ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা।

৭। বন্দরটিলা ঘাট (নিঝুম দ্বীপ) থেকে আবার ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল যেতে হবে নামার বাজার (নিঝুম দ্বীপ), ভাড়া ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেলে দুইজন। (বন্দরটীলা হচ্ছে নিঝুম দ্বীপের উত্তর পাশে। আর নামার বাজার হচ্ছে দক্ষিণ পাশে। বন্দরটিলা থেকে নামার বাজারের দূরত্ব প্রায় ১০ কিমি। বন্দরটিলাতেও থাকা যায় তবে ভালো থাকার ব্যবস্থা রয়েছে নামার বাজারে।)

Bondortila, Nijhom dwip

উল্লেখ্ করা প্রয়োজন যে, সময়ের বিবর্তনে পরিবহনের ভাড়া ও সময়ের ক্ষেত্রে তারতম্য হতে পারে। তাই যাতায়াতের আগেই পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভাড়া ও সময়সূচি জেনে নেবেন। তাছাড়া জোয়ার-ভাটা ও ঝড়-বৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে ট্রলার চলাচলের সময় ও ভাড়া বিভিন্ন রকম হতে পারে। স্থানীয় যে কোনো বাহনে চড়ার আগেই দরদাম ঠিক করে নেবেন। যারা সড়ক পথে আসবেন তারা চেয়ারম্যান ঘাট থেকে দুপুরের আগেই যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করবেন যাতে সন্ধ্যার আগেই নিঝুম দ্বীপে এসে পৌঁছতে পারেন। বন্দরটিলা ও মোক্তারিয়া ঘাটে কোনো জেটি নেই, তাই প্রায় সময় কাঁদা মাড়িয়ে হাঁটু পানিতে নেমে ট্রলারে উঠতে হয়।

ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ (নৌপথে):
সদরঘাট, ঢাকা → তমরুদ্দি, হাতিয়া → মোক্তারিয়া ঘাট, হাতিয়া → বন্দরটিলা (নিঝুম দ্বীপ) → নামার বাজার
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন পানামা ও টিপু-৫ নামের লঞ্চ হাতিয়ার (তমরুদ্দি) উদ্দেশে ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। ভাড়া ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৭০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১২০০ টাকা এবং ভিআইপি ১৬০০ টাকা। সময়মতো লঞ্চ ছাড়লে এবং আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে হাতিয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছবে। পানামা লঞ্চের যোগাযোগ: ০১৭৪০৯৫১৭২০।
তমুরদ্দী ঘাট থেকে বেবি টেক্সিতে (৫০০-৬০০ টাকা) সরাসরি মোক্তারিয়া ঘাটে যাওয়া যায় অথবা সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ করেও মোক্তারিয়া ঘাটে যাওয়া যায় ভাড়া দুই জন ৩০০ – ৩৫০ টাকা। সময় লাগবে প্রায় দুই ঘন্টা। তমুরুদ্দি ঘাট থেকে সরাসরি রিজার্ভ ট্রলারেও নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম – নিঝুম দ্বীপ:
চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়াগামী জাহাজ ‘এম ভি বার আওলিয়া’ অথবা ‘এম ভি আব্দুল মতিন’-এ উঠে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নামতে হবে। শুক্র ও রবিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ এ চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সন্দীপ হয়ে হাতিয়া পৌছে বিকাল ৫ টায়। তাছাড়া চট্রগাম থেকে সড়কপথে নোয়াখালীর সোনাপুর হয়েও নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়।
আরো তথ্য জানতে BIWTC ফোন : ০৩১-৬৩৬৮৭৩

পর্যটন নিবাস

নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য আদর্শ স্থান নামার বাজার। এখান থেকে খুব সহজেই মূল বনে ঢোকা যায়। তাছাড়া এই এলাকাটি দক্ষিণ প্রান্তে হওয়ায় সাগরের খুব কাছাকাছি। নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য নামার বাজারের উত্তরে অবকাশ পর্যটন নির্মাণ করেছে নিঝুম রিসোর্ট এবং নামার বাজার মসজিদ কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে মসজিদ বোর্ডিং।

নিঝুম রিসোর্ট: এই রিসোর্টে ৯টি ডাবল ও ট্রিপল বেডের রুম এবং ৩টি ডরমিটরি রয়েছে যেখানে মোট ২২টি বেড রয়েছে। পুরো নিঝুম রিসোর্টে ৬০ জনেরও বেশি সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নিঝুম রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য। সব গুলো রুমে এটাচ বাথ রুম রয়েছে। দুপুর ১২ টার আগে চেক আউট করতে হয়। অফ সিজনে রুম ভাড়ায় ৫০% ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় ( এপ্রিল ১৫- সেপ্টেম্বর ৩০)। জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০.৩০ পর্যন্ত। এছাড়া সাড়া রাত লাইট ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়।
রিসোর্টের রুম ভাড়া: ২ বেডের (১টি বাথরুম) ডিলাক্স রুমের ভাড়া ১ হাজার টাকা। ৬ বেডের ফ্যামিলি রুমের (১টি চার বেডের রুম ও অন্যটি ২ বেডের রুম এবং ২টি বাথরুম) ভাড়া ২ হাজার টাকা। ১২ বেডের ডরমিটরির (৩টি বাথরুম) ভাড়া ২৪০০ টাকা এবং ৫ বেডের ডরমিটরির (২টি বাথরুম) ভাড়া ১২০০ টাকা। রুমে অতিরিক্ত কেউ থাকলে জনপ্রতি ১শ’ টাকা।
নিঝুম রিসোর্ট বুকিং করতে ঢাকায় যোগাযোগ: অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, আলহাজ শামসুদ্দিন ম্যানশন (৯ম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। ফোন: ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯।
নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগ: ইনচার্জ, নিঝুম রিসোর্ট, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোন: ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪।

মসজিদ বোডিং: বাজারের উত্তর প্রান্তে মসজিদ বোডিংএ থাকলে ভাড়া পড়বে মাত্র ৮০-১০০ টাকা জন প্রতি। এখানে রুমগুলো পরিপাটি এবং সুন্দর। এই বোর্ডিং-এ কোনো এটাচ্ট বাথরুম এবং জেনারটরের ব্যবস্থা নাই। এখানে ২টি কমন বাথরুম এবং একটি টিউবওয়েল আছে। এই বোর্ডিং-এ থাকার জন্য বুকিং করতে যোগাযোগ করুন: মোঃ আব্দুল হামিদ জসিম, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, নামার বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯।
তাছাড়া বন বিভাগের বাংলো, জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলো, রেড-ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সাইক্লোন সেন্টারেও থাকার ব্যবস্থা করা যায়। তবে এগুলোর জন্য পূর্বেই অনুমতি নিতে হয়।
নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলা। এইটা নতুন উদ্বোধন হয়েছে এই বছরেই। পরিবেশ টা ভালো। নিঝুমদ্বীপ বুকিং অফিসঃ০১৮৪৭১২৩৫৭২।
হোটেল দ্বীপ সম্পদ, (সৈয়দ চাচার থাকা ও খাওয়ার হোটেল) নামার বাজার। ফোনঃ ০১৭২০ ৬০১ ০২৬, ০১৭৬০ ০০৮১০৬।

ভ্রমণের সময়কাল ও আবহাওয়া

অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ভ্রমনের জন্য ভালো সময়। মে – সেপ্টেম্বর বর্ষা ও ঝড়ের কারনে মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে। এখানকার বেশিরভাগ রাস্তাই কাঁচা। বর্ষাকালে এগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং পুরো দ্বীপ কাদায় হেঁটে পার হতে হবে। শীতকালে গেলে রাস্তাঘাট সব ভালো থাকে, খালের মধ্যে পানি কম থাকে, ফলে বনের মধ্যে যে কোনো জায়গায় অনায়াসে ঘোরা যায়। এসময় বিকেলে খোলা মাঠে হরিণের পাল ঘাস খেতে আসে, সৈকতও অনেক শুকনো থাকে। সমস্যা হচ্ছে পর্যটক বেশি হওয়ায় তখন সব কিছুর দাম অনেক বেড়ে যায় এবং ঠান্ডার কারণে দ্বীপের রাত্রিকালীন সৌন্দর্য উপভোগ করা কষ্টকর হয়। তাই শরৎ বা বসন্তকালে আসতে পারলে সবদিক দিয়ে ভালো।

খাওয়া-দাওয়া

খাবারের জন্য রয়েছে স্থানীয় হোটেল। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটা চাল, মাছ, মুরগী, ডিম ইত্যাদি সব জায়গায় পাওয়া যায়। তবে বর্ষার মৌসুমে রয়েছে ইলিশের ছড়াছড়ি। খাওয়ার আগেই দাম জেনে নিন। এখানে যতবেশি সম্ভব সামুদ্রিক মাছ এবং চিংড়ী খাবেন। কারণ এগুলো ঢাকা/চট্টগ্রামের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং তাজা। রিসোর্ট বা হোটেলের ম্যানেজারের সাথে আলাপ করে সব উপকরণ কিনে দিলে ওরা অনেক সময় একটি পর্যটক দলের জন্য বার বি কিউ বা বিশেষ কোন খাওয়ার ব্যাবস্থা করে। জোয়ার-ভাটা, অমাবশ্যা-পূর্ণিমা ও ঋতুর ওপর নির্ভর করে এখানে কিছু বিরল প্রকৃতির মাছ পাওয়া যায়। সুযোগ পেলেই খেয়ে দেখবেন। বাজারে কোনো তাজা ও বড় মাছ দেখে একান্ত খাওয়ার ইচ্ছা হলে কিনে আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারকে বলে রান্নার ব্যবস্থাও করা যায়।

ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকাচার:

ভৌগোলিকভাবে নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন। তাছাড়া এখানকার বেশিরভাগ মানুষের আদিনিবাস নোয়াখালী জিলার বিভিন্ন এলাকায়। তাই এখানকার স্থানীয় লোকেরা নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। এরা অনেকেই নদীর ভাঙনে বা অন্য কোন কারণে বাসস্থান হারিয়ে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছে। কৃষিকাজ ও মাছধরা এখানকার বেশিরভাগ মানুষের পেশা। দিনদিন এখানেও মানুষ বাড়ছে। কৃষি কাজের জন্য তাদের জমির প্রয়োজন। তাই গ্রাস হচ্ছে বনাঞ্চল! গৃহায়নের প্রয়োজনে বনের গাছ উজাড় হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা জনবসতির বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় দ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যও নষ্ট হচ্ছে। পর্যটকদের এখানে এমন কিছু করা উচিত নয় যা স্থানীয় লোকদের সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হতে পারে। এখানকার লোকজন সাধারণত পর্যটকদের এলাকার মেহমান হিসাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

এটি একটি নতুন জাগা চর বা দ্বীপ, বয়স মাত্র ৫০-৬০ বছর! সুতরাং এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য খোঁজাখুজি না করে শরীরমন প্রশমিত করে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সময় নিয়ে আসলে নিঝুম দ্বীপের নিম্নলোখিত স্থানগুলো স্থানীয় গাইডদের সহায়তায় প্ল্যান করে পরিদর্শন করতে পারেন: কমলার দ্বীপ, কবিরাজের চর, চোয়াখালি ও চোয়াখালি সী-বিচ, ম্যানগ্রোভ বন, নামার বাজার সী-বিচ, দমার চর ইত্যাদি। বনেঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের খালগুলোর মধ্যে চৌধুরীর খাল, পটকাখালী খাল, সোয়ানখালী খাল, ডুবাই খাল, ধামসাখালী খাল, ভট্রোখালী খাল, কাউনিয়া খাল, লেংটা খাল। এ দর্শনীয় খালগুলো জোয়ারের পানিতে পূর্ণ হলে মায়াবী সৌন্দর্য্য ছড়ায়। চৌধুরীর খাল ও ডুবাই খালের পাড়ে বনের মায়াবী হরিণের দল পর্যটকদের আকর্ষণ কাড়ে। সমুদ্র পাড়ে ১২ কিমি সমুদ্রসৈকত, সৈকতে এরা ভ্রমণবিলাসীদের মনে আনন্দ ছড়ায়।

ভ্রমণ টিপস:

দ্বীপের বাইরে থেকে যেসব জিনিস আসে সেগুলোর দাম একটু বেশি। দ্বীপের অধিকাংশ রাস্তায় কাঁচা। তবে ধীর গতিতে হলেও নতুন করে রাস্তা পাকা হচ্ছে। দ্বীপে সাইকেল ও মোটর সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। এখানে ছোট ছোট ছেলেরা গাইডের কাজ করে। টাকাও খব বেশি দিতে হয় না। এখানে সবকিছু দেখতে হলে শুধু রাস্তায় হাঁটলে চলবে না। কখনো রাস্তায়, কখনো বনের গভীরে, কখনো খোলা প্রান্তরের মধ্য দিয়ে, কখনো সাগর/নদীর হাঁটু পানিতে, আবার কখনো নৌকায় ঘুরতে হবে। তাই যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। সবকিছু ঘুরে দেখতে হলে কমপক্ষে দু’দিন-দু’রাত এখানে থাকতে হবে। আর আসতে সময় লাগবে একদিন ও ফিরতে লাগবে একদিন। অর্থাৎ মোট চার থেকে পাঁচ দিনের সফর। মহিলা ও শিশুদের জন্য নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে হাতিয়ার তমুরুদ্দি থেকে ট্রলার বা স্পীডবোট রিজার্ভ করে সরাসরি নিঝুম দ্বীপে আসলে কষ্ট কিছুটা কম হবে।
ক্যাম্পিং বা তাঁবু খাটিয়ে উন্মুক্ত প্রকৃতির মাঝেও রাত খাটানো যায়। তেমন কোন বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তারপরেও সাবধানে থাকা ভালো। ক্যাম্পিং-এর জন্য সাইক্লোন সেন্টারে আশেপাশে থাকাই ভালো। কারণ এখানে বাথরুম ও খাবার পানির ব্যববস্থা আছে।
বাজারে যাই কিনুন, হোটেলে যাই খান বা যেই যানবাহনে চড়েন না কেন সবক্ষেত্রে আগে দরদাম করে নিন। বনের মধ্যে বন্য কুকুরের উৎপাত কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে! এগুলো অনেকসময় মানুষকেও আক্রমণ করতে চায়। তাই গভীর বনের মধ্যে একা হাঁটার সময় হাতে লাঠি জাতীয় কিছু রাখা ভালো।

আনুমানিক খরচ

মিতব্যয়ী হিসেবে খরচ করলে তিন-চার দিনের সফরের জন্য পাঁচ হাজার টাকায় হয়ে যাবে। কয়েকজন মিলে দলবেঁধে গেলে মাথাপিছু খরচ কম হয়।

চিত্রমালা

নিঝুম দ্বীপের কিছু ছবি (16)
(ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

বনবিভাগের কার্যক্রম

১৯৭১-৭২ অর্থবছর থেকে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছর পর্যন্ত বন বিভাগ নিঝুম দ্বীপে সাত হাজার ৫০ একর এবং ২০০০-০১ সালে ৪৬০ একরসহ মোট সাত হাজার ৬১০ একর ম্যানগ্রোভ বাগান গড়ে। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপে বন বিভাগের আওতাধীন রয়েছে ১২ হাজার ৫৫০ একর ভূমি। বন বিভাগের বিশাল বন এলাকায় রয়েছে কেওড়া, গেওয়া, কাঁকড়া, বাইন, বাবুল, করমজা ইত্যাদি গাছ। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সরকার নিঝুম দ্বীপের নয় হাজার ৫৫০ একরসহ জাহাজমারা রেঞ্জের মোট ৪০ হাজার ৩৯০ একর বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়। বনবিভাগ নিঝুম দ্বীপের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, বন্যপ্রাণী (হরিণ) নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। বনবিভাগের পদক্ষেপে নতুন জেগে উঠা চরে লাগানো হচ্ছে কেওড়া গাছের চারা। বনবিভাগ এটিকে ন্যাশনাল পার্ক করার পরিকল্পনা শুরু করেছে। এছাড়াও বনবিভাগ এই অঞ্চলে আগে লাগানো কেওড়া বন রক্ষায় স্থানীয়দের সাথে মিলেমিশে কাজ করছে।
বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মাচারীকে ঘুষ দিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক বনের গাছ কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা নিয়ে বাহির থেকে আসা লোককে দ্বীপে পুনর্বাসন করছে। দ্বীপের জমিতে চাষ করতে হলেও চাঁদা দিতে হয় সন্ত্রাসীদের আর সাগরে মাছ ধরতে হলে চাঁদা দিতে হয় জলদস্যুদের।

প্রামাণ্যচিত্র

বাংলার মুখ – নিঝুম দ্বীপ : Tawhid Sharat

নিঝুম দ্বীপের জীববৈচিত্র্য : চ্যানেল আই

বাংলা লিঙ্ক – বাংলার পথে (নিঝুম দ্বীপ) : টিঙ্কু চৌধুরী

বহিঃসংযোগ

  1. হাতিয়া কন্ঠ
  2. Nijhum Dwip Package
  3. উইকিপিডিয়া
  4. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

তথ্যসূত্র: পর্যটকের অভিজ্ঞতা, ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া, পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টিভি ইত্যাদি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।