মাইক্রোওয়েব ওভেন

মাইক্রোওয়েব ওভেন বিংশ শতাব্দির অন্যতম আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি। আজকের ফাস্ট লাইফকে আরও ফাস্ট করেছে এই মাইক্রোওভেন। মাইক্রোওভেনে রান্নায় খাদ্যের রং, স্বাদ এবং পুষ্টিমান অটুট থাকে। অল্প সময়ে কম ঝামেলায় প্রা্য় সবকিছু রান্না করা যায়। এই ওভেনে খাদ্য গরম বা রান্না করতে খুব কম সময় লাগে এবং বিদুৎ খরচও কম। “মাইক্রোওয়েব ওভেন” নাম থেকেই বোঝা যায়, এর ক্ষমতার উৎস মাইক্রোওয়েব যার ফ্রিকোয়েন্সী প্রায় ২৫০০ মেগাহার্জ।
এই তরঙ্গগুলো ওভেনের বাহিরে আসে না। তাছাড়া ওভেনের দরজা খোলার সাথে সাথে ওভেন বন্ধ হয়ে যায়। অনেকের ধারণা মাইক্রোওভেনের ব্যবহার খুব ক্ষতিকর। এর থেকে নির্গত ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক রেড়িয়েশনের কারণে ক্যান্সার হতে পারে! কিন্তু এর কোন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। তাই এটি নির্ভয়ে ব্যবহার করা যায়।
microwave-oven

এই তরঙ্গগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল:

  • পানি, চর্বি, চিনি জাতীয় বস্তুর মিশ্রন আছে এমন সব ধরনের খাদ্যবস্তু এই তরঙ্গগুলো শুষে নেয়। তখন এইসব বস্তুর পরমাণুর মধ্যে সৃষ্টি হয় কম্পন, কম্পন থেকে তাপ এবং সেই তাপেই গরম হ্য় খাদ্যবস্তু। অর্থাৎ খাদ্যবস্তুর মধ্যে সৃষ্ট তাপেই খাদ্য গরম হয়। তাই যেসব খাবার আগুনের স্যাকা বা তাপে ঝলসে লাল হতে হবে সে ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েব ওভেনে রান্না করা যায় না। যেমন মাছ ভাজা, তেলে ভাজা, বেকিং, ইত্যাদি।
  • ওভেনপ্রুফ প্লাষ্টিক, শক্ত ও পুরু কাঁচ এবং সিরামিক জাতীয় পদার্থ এই তরঙ্গগুলো শুষে নেয় না, অর্থাৎ এদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া হয় না। তাই খাদ্যদ্রব্য এই জাতীয় পাত্রে রেখে ওভেনে দিতে হয়। তছাড়া পাত্রের উপরে ঢেকে দেওয়ার জন্য ছিদ্র সমেত প্লাস্টিকের কভার পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, খাবারে রেডিয়েশন পৌঁছানোর জন্য ঢাকনিতে অবশ্যই ছিদ্র থাকতে হবে।
  • ধাতু  মাইক্রোওয়েব তরঙ্গ রিফ্লেক্ট করে। তাই এই ওভেনে ধাতুর (লৌহা, তামা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম) কোন বস্তু ব্যবহার করা যায় না।

সিরামিক বা প্লাস্টিকের বাটিতে যে কোন খাবার রেখে প্রোগ্রামে পাওয়ার ও সময় সেট করে স্টার্ট বাটনে চাপ দিলেই হল। মাইক্রোওভেনে খাদ্য রান্নার সঠিক নিয়ম ও সময়কাল জানা থাকলে খাবার নষ্ট ও পুড়ে যাবার ভয় থাকে না। খাবারের প্রকারভেদ, পরিমাণ ও তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে ওভেনের পাওয়ার ও সময় সেট করতে হয়। প্রথমবার ব্যবহারের সময় টাইম কম দেওয়া ভালো, পরে প্রয়োজনে ধাপে ধপে সময় বাড়ানো যায়। সাধারণত কয়েকবার ব্যবহার করলে সঠিক পাওয়ার ও সময় সম্পর্কে ধারণা হয়ে যায়। যেমন- বড় সাইজের এক কাপ পানি গরম করতে ৮৫০ ওয়ার্ট পাওয়ারে প্রায় দুই মিনিট সময় লাগে। খাবার পরিমাণ বেশি হলে বা রান্না করার সময় দীর্ঘ হলে মাঝখানে মাইক্রো ওভেনের দরজা খুলে দুই একবার নেড়ে দিতে হবে যাতে সঠিকভাবে রান্না হয়। সাধারণত মাইক্রো ওভেনের দরজা খুললে সেট করা টাইম ঠিক থাকে তাই আবার নেড়ে দিয়ে দরজা লাগিয়ে স্টার্ট বাটনে চাপ দিলেই বাকী সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে।

আমাদের দেশের রান্নার পদ্ধতি অনেকটা জটিল, সেইসাথে হরেক রকমের মসল্লাকে বিভিন্ন ধাপে প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা খাবার নিমিষে গরম করে খাওয়ার জন্য মাইক্রোওভেনের কোনো জুড়ি নেই। কারণ ঠান্ডা খাওয়ার চুলোয় গরম করে খেতে হলে সময় লাগে বেশি, বিদ্যুৎ/গ্যাস লাগে বেশি এবং খাবারের মানও ভালো থাকে না। তাই আমাদের দেশে বিশেষ করে ঠান্ডা খাবার গরম করতে এই ওভেনের ব্যবহার হ্য় বেশী। ইদানিং ফাস্ট ফুডের দোকানে মাইক্রোওভেনে ২-৩ মিনিটের মধ্যে রান্না করার জন্য বিশেষভাবে প্যাকেটকৃত খাবার পাওয়া যায়।

সূত্র: ইন্টারনেট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।