কেনিয়ায় জঙ্গি হামলায় ১৪৭ জন নিহত

২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কেনিয়ার গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় কমপক্ষে ১৪৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ১৯৯৮ সালে দেশটিতে আমেরিকান দূতাবাসে হামলার পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। বৃহস্পতিবার ভোর হওয়ার আগে মুখোধারী বন্দুকধারীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ হামলা চালায়।

kenya
ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার আগে গ্রেনেড ছুড়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক উড়িয়ে দেয় তারা। বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গারিশা শহরে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা ক্রিশ্চিয়ানদের আলাদা করে হত্যা করে। নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৫০০ জন ছাত্রকে উদ্ধার করে বলে দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতদের মধ্যে চারজন হামলাকারীও রয়েছে। গ্যারিসাসহ সোমালি সীমান্তলগ্ন চারটি অঞ্চলে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। বন্দুকধারীদের হামলায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
garissa-attack
সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শেষ হয়েছে এবং তারা ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। পার্শ্ববতী দেশ সোমালিয়ার আল শাবাব জঙ্গিসংগঠনের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে কেনিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন পাঁচজন মুখোশপরা বন্ধুকধারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। কেনিয়ার রেড ক্রস বলছে প্রায় ৫০ জনের মত শিক্ষার্থী বের হয়ে আসতে পেরেছে। তবে সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বেশ কয়েকজন ভিতরে আটকা রয়েছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি। আল শাবাব ইতিমধ্যে এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে সেপ্টেম্বরে জঙ্গিগোষ্ঠীটি নাইরোবির একটি মার্কেটে হামলা চালিয়ে ৬৭ জনকে হত্যা করে। সোমালিয়ার জঙ্গি সংগঠন আল-শাবারের বিরুদ্ধে আফ্রিকান ইউনিয়নের অভিযানে অংশ নিচ্ছে কেনিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। ওই অভিযানের প্রতিশোধ নিতে আল-শাবাব কেনিয়ার বিরুদ্ধে ‘দীর্ঘ মেয়াদী এবং বিভীষিকাময়’ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর পর থেকে প্রায়ই কেনিয়ায় পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে আসছে গোষ্ঠীটি।

কেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার মূল চক্রী মোহাম্মদ একজন শিক্ষক তার নাম মোহাম্মদ মোহামুদ ওরফে দুলাদিন ওরফে গামাধের, যে ওই অঞ্চলে আতঙ্কের শিক্ষক হিসাবে পরিচিত। নাইরোবি পুলিশের অপরাধদমন বিভাগের সহ অধ্যক্ষ গিডইয়ন কিমিলু জানান, গত বছরের শেষে নভেম্বরে সোমালিয়ার সীমান্তে মান্দেরায় বোমা মেরে ২৮ জন অমুসলিমকে হত্যা করা হয়। এর ঠিক দশদিন পরই ৩৬ জন অমুসলিম খনি শ্রমিককে হত্যা করা হয়। দুটি ঘটনার পিছনেই মোহামুদের হাত রয়েছে বলে মনে করছে নাইরোবি পুলিশ।
duladin
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত গারিসার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিল মোহাম্মদ মোহামুদ। সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণের কাজ চলত। এরপর ১৫ বছর আগে সে আল-শাবাবে যোগ দেয়। তারপর এত বছরে ধীরে ধীরে গোটা কেনিয়ায় সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে মোহাম্মদ।

কেনিয়ার গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি হামলায় ১৪৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন নিরাপত্তারক্ষীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কাছে মাথানত করবে না কেনিয়া। বৃহস্পতিবার কেনিয়ার গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল শাবাব জঙ্গিদের হামলায় ১৪৭ জন নিহত হন। এ হামলার একদিন পর শুক্রবার কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোসেফ কাইসরি বলেন, যেসব সন্ত্রাসী নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, তাদের ভয়ে পিছু হটবে না তার সরকার। গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে আর এ লড়াইয়ে আমরাই জিতব।

বহিঃসংযোগ: কেনিয়া, গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয়, আল-শাবাব

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, পত্রপত্রিকা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।